গত বৃহস্পতিবার ছিলো পশ্চিমবঙ্গে SIR(Special Intensive Revision) এনুমারেশন পর্বের শেষ দিন। ফলে বৃহস্পতিবার যে পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে, তাতে খুব বেশি পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগামি ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে SIR খসড়া তালিকা।
পশ্চিমবঙ্গের SIR খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল ৫০ লক্ষের বেশি ভোটার। এর ফলে মৃত, স্থানান্তরিত এবং নিখোঁজ এমন ভোটারের সংখ্যা আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেল। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এনুমারেশন ফর্মের পর্ব শেষে মোট ৫৮ লক্ষ ৮ হাজার ২০২ জনের নাম বাদ পড়তে চলেছে। খসড়া তালিকাতে এই পরিসংখ্যানে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
কমিশন সূত্রে দাবি, এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে মোট মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৯৯ জন। এ ছাড়া, ১২ লক্ষ ১ হাজার ৪৬২ জন ভোটারের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল যে কোনও ভোটারের খোঁজে সংশ্লিষ্ট বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও) যদি তাঁর বাড়ি থেকে অন্তত তিন বার আসেন, কিন্তু ওই ভোটারের খোঁজ যদি তার পরেও না-পাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে তাঁদের নিখোঁজ তালিকায় রাখা হয়।
কয়লা পাচার তদন্তে জমির ব্যবসা, দলিল-চুক্তিপত্র বাজেয়াপ্ত করল ইডি
এ ছাড়া, এ রাজ্যে মোট ১৯ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮৭ জন ভোটার নিজেদের ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন অর্থাৎ এরা স্থানান্তরিত ভোটার। একাধিক জায়গার ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল। ফলে একটি জায়গায় রেখে বাকি জায়গা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে মোট ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫৭৫ জন ভোটারকে কমিশন ‘ভুয়ো ভোটার’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। তাঁদের নামও খসড়া তালিকায় থাকবে না। এ ছাড়া, আরও ৫৭ হাজার ৫০৯ জন বাদ পড়তে চলেছেন।
২৪ কোটির ক্রিকেটার বেঙ্কটেশকে আবার নিলামে কেনার ইঙ্গিত দিয়ে কেকেআরের কোচ বললেন ‘ওর মানসিকতা দুর্দান্ত’

আগামী ১৬ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন SIR খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে পশ্চিমবঙ্গে। আর তাতে যদি কোনও অভিযোগ থাকে, ত্রুটি থাকে কমিশনকে জানাতে হবে। তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে দেখে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করবে নির্বাচন কমিশন আগামি ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করবে।সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশন সকল ভোটারদের মোট তিনটি তালিকায় ভাগ করেছে আর তা হল নিজস্ব ম্যাপিং, প্রজিনি ম্যাপিং এবং নন-ম্যাপিং। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় (পশ্চিমবঙ্গে শেষ বার এসআইআর হয়েছিল ২০০২ সালে) যাঁদের নাম ছিল, তাঁরা নিজস্ব ম্যাপিংয়ের তালিকায় পড়ছেন। এমন ২ কোটি ৯৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ১৮৮ জন ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাঁদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় না-থাকলেও বাবা-মা বা আত্মীয়ের নাম আছে, তাঁরা প্রজিনি ম্যাপিং(Progeny Mapping) তালিকায় রয়েছেন। রাজ্যে এইরকম ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৯৩৯ জন। এ ছাড়া, ৩০ লক্ষ ভোটার রয়েছেন, যাঁদের নিজেদের নাম বা আত্মীয়ের নামও ২০০২ সালের তালিকায় নেই। তাঁরা নন-ম্যাপিং তালিকাভুক্ত। এই তৃতীয় তালিকার সকলকেই কমিশনের তরফে শুনানিতে ডাকা হবে। তাঁদের তথ্যপ্রমাণ, নথি যাচাই করে দেখা হবে। এ ছাড়া, প্রথম দুই তালিকার ভোটারদের মধ্যে কারও তথ্যে সন্দেহ থাকলে তাঁদের শুনানিতে ডাকা হতে পারে।

গত ৪ নভেম্বর থেকে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। সাতটি রাজ্যে এই প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার। সবচেয়ে বেশি সময় দেওয়া হয়েছে উত্তরপ্রদেশকে। তবে পশ্চিমবঙ্গের সময়সীমা আর বাড়ানো হয়নি। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী এই রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।