বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫

কয়লা পাচার তদন্তে জমির ব্যবসা, দলিল-চুক্তিপত্র বাজেয়াপ্ত করল ইডি

কয়লা পাচার তদন্তে জমির ব্যবসা, দলিল-চুক্তিপত্র বাজেয়াপ্ত করল ইডি


আসানসোল: বাংলা-ঝাড়খণ্ডে কয়লা পাচারের তদন্তের (coal scam)দু’দিন পর বিবৃতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রেস রিলিজে তাদের একাধিক দাবি ঘিরে শোরগোল পড়েছে। কয়লা কারবারের বিপুল টাকা যে জমি কারবারে খাটত তা কার্যত স্পষ্ট করা হয়েছে। ইডির দাবি, বিপুল সংখ্যক জমির ডিড ও জমি কেনাবেচার চুক্তিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যা কয়লা সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত। জমির নথি ছাড়াও ৪৪টি জায়গায় অভিযানে নগদ ১৪কোটি টাকার বেশি উদ্ধার হয়েছে। সোনার গয়নাও উদ্ধার হয়েছে।



এর আগে সিবিআই(CBI) তদন্তে কয়লা কারবারি লালার লাল ডায়েরি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। কয়লা নিয়ে ইডির তদন্তেও উঠে এসেছে তেমনই রহস্যময় কিছু ডায়েরি। ইডির(Enforcement Directorate) সূত্রের দাবি, শুক্রবার দিনভর অভিযানে সিন্ডিকেটের মাথাদের কাছ থেকে বেশকিছু ডায়েরি ও রেজিস্টার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যেখানে এই কারবারের সুবিধাভোগীদের নাম উল্লেখ রয়েছে। তাদের চিহ্নিত করাও হয়েছে। এই সূত্র ধরেই কেন্দ্রীয় সংস্থা ফের প্রভাবশালী যোগসূত্র তৈরি করল বলেই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। তারা এও দাবি করেছে, বাংলা ও ঝাড়খণ্ড সীমানাজুড়ে বড় র‌্যাকেট তৈরি করেই কয়লা কারবার হত। স্থানীয় প্রশাসনের মদতেই তা চলত বলে প্রেস রিলিজে দাবি করেছে ইডি।



গত কয়েক বছর ধরেই আসানসোল, দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে বেপরোয়াভাবে জমির কারবার চলছে। ফাঁকা জমি দেখতে পাওয়া‌ই দুষ্কর। জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়কের পাশে রাতারাতি বহুতল আবাসন গজিয়ে উঠছে। একটু ভিতরে জমি হলে সেখানে আবার গড়ে উঠছে উপনগরী। প্লটিং করা জমি থেকে একতলা, দোতলা বাড়ি বা বাংলো কেনার অফার। কয়েক বছরে শিল্পাঞ্চলের জমির দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। যা সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছে। শিল্পাঞ্চলের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের বহু ব্যবসায়ী বিপুল দাম দিয়ে জমি কিনে নিচ্ছে। খনি অঞ্চলের পরিচিত মাফিয়ারা চুটিয়ে জমির কারবার করায় কয়লার কালো টাকা ঢুকছে বলেই অনেকে আশঙ্কা করছিলেন। ইডি অভিযানে তাতেই সিলমোহর পড়ল। 


ইডি মূলত ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ, দুমকা, বাংলার আসানসোল, দুর্গাপুর, রানিগঞ্জ, কলকাতা, হাওড়ায় অভিযান চালিয়েছে। একাধিক কয়লা কারবারির বাড়ি থেকে বিপুল জমি কেনা ও বিক্রির নথি উদ্ধার হয়েছে। কয়লা পাচারের কোটি কোটি টাকাই বিপুল মূল্যের জমির কারবারে লেনদেন করা হয়েছে। কয়লা সিন্ডিকেটের মাথারাই নামে বা বেনামে বিভিন্ন সংস্থা খুলে জমি কিনে আবাসন, প্লটিং করিয়েছে। শুধু তাই নয় প্রভাব খাটিয়ে বা জোর করে টাকার বিনিময়ে জমি দখল করা হয়েছে। কয়লার টাকায় শিল্পাঞ্চলের জমির বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে গিয়েছে। 

আরও উল্লেখযোগ্য বিষয়, ‌ইডির জারি করা প্রেস রিলিজে এই কারবারের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যবসায়ীদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে রানিগঞ্জের নরেন্দ্র খাড়কা ও পুরুলিয়ার নীরদবরণ মণ্ডলের নাম রয়েছে। যারা কয়লা পাচার মামলায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতারও হয়েছিলেন। এখনও তাঁরা আসানসোল সিবিআই কোর্টে হাজিরা দেন।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

please do not send any spam link in the comment box

SIR in West Bengal: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার(SIR) শুনানি পর্ব কবে থেকে শুরু হবে তা জানালো নির্বাচন কমিশন।

রাজ্যের খসড়া তালিকা প্রকাশ করার পরে এবার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন তথা এসআইআর-এর দ্বিতীয় পর্ব শুরু হতে চলেছে। SIR in West Bengal আগ...